বিজিএমইএর সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের বৈঠক

বাংলাদেশে তুলা রফতানিতে জটিলতার সমাধান চান যুক্তরাষ্ট্রের রফতানিকারকরা

বাংলাদেশে তুলা রফতানির ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ডকুমেন্টেশন প্রস্তুতে বেশকিছু প্রতিবন্ধকতা ও জটিলতা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের তুলা রফতানিকারকরা।

বাংলাদেশে তুলা রফতানির ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ডকুমেন্টেশন প্রস্তুতে বেশকিছু প্রতিবন্ধকতা ও জটিলতা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের তুলা রফতানিকারকরা। এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।

রাজধানীর উত্তরার বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সঙ্গে গতকাল এক বৈঠকে এ দাবি জানান যুক্তরাষ্ট্রের তুলা রফতানিকারকরা। কটন ইউএসএর উদ্যোগে মার্কিন তুলা রফতানিকারকদের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এতে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় মূল আলোচনার বিষয় ছিল দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, মার্কিন তুলার ব্যবহার সম্প্রসারণ ও যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানিতে নবঘোষিত শুল্ক সুবিধা কাজে লাগানো।

মার্কিন তুলা রফতানিকারকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিজিএমইএ সভাপতি প্রতিনিধি দলকে লিখিত আকারে তাদের প্রস্তাব জানানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেন যে বিজিএমইএ বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যথাযথভাবে উপস্থাপন করবে, যাতে দ্রুত এ জটিলতাগুলো নিরসন করা যায়।

বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলে ছিলেন ইকমের লি ইন, কারগিলের ক্রিস্টা রিকম্যান, এলডিসির ডিয়েগো লোজাদা, ওলাম এগ্রির ওয়েসলি রেন্টজ, ক্যারোলিনা কটন গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের ওয়েন বোসম্যান স্ট্যাপলকটন কো-অপারেটিভের ক্রিস জোন্স এবং কটন কাউন্সিল ইন্টারন্যাশনালের উইল বেটেনডর্ফ ও আলী আরসালান। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে সংগঠনটির পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান ও পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা।

বৈঠকে বাংলাদেশের পোশাক খাতে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা সরবরাহের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এ সময় আলোচনার কেন্দ্রে ছিল সম্প্রতি ঘোষিত মার্কিন নির্বাহী আদেশ। যেখানে পোশাক উৎপাদনে ন্যূনতম ২০ শতাংশ মার্কিন কাঁচামাল ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানির ক্ষেত্রে নতুন আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক থেকে আনুপাতিক হারে ছাড় পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান বলেন, ‘এ নতুন শুল্ক ছাড়ের সুযোগ শিল্প খাতের জন্য এক বিশাল সম্ভাবনা এনে দিয়েছে, যা আমাদের পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরো প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।’ তবে তিনি উল্লেখ করেন, এ সুবিধা বাংলাদেশের স্পিনার ও পোশাক কারখানাগুলো কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লাভ করবে, সে বিষয়ে এখনো ব্যবসায়ীদের কাছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই।

বিজিএমইএ সভাপতি প্রতিনিধি দলকে অনুরোধ জানান, তারা যেন মার্কিন প্রশাসনের কাছ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় স্পষ্টীকরণ এনে বিজিএমইএকে সরবরাহ করেন। এতে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা বিলম্ব না করে শুল্ক সুবিধা গ্রহণে দ্রুত প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

তিনি আরো জানান, মার্কিন তুলার উচ্চ গুণগত মান ও তুলনামূলক সুবিধা নিয়ে বিশদ গবেষণা করে স্পিনার ও কারখানাগুলোকে তথ্য সরবরাহ করা হলে তারা আমদানি বাড়াতে উৎসাহিত হবেন।

মার্কিন কটন কাউন্সিল ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিরা বলেন, বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্প বিশ্ববাজারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন তুলা তার টেকসই গুণাবলি, নির্ভরযোগ্যতা ও উচ্চমানের জন্য সুপরিচিত। মার্কিন তুলা ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাক রফতানিকারকরা তাদের পণ্যের মান আরো উন্নত করতে পারবে এবং মার্কিন বাজারে শুল্ক সুবিধা কাজে লাগিয়ে নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারিত করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।

এ সময় বাংলাদেশের বাজারে মার্কিন তুলা সরবরাহ আরো সহজ ও দ্রুত করতে লজিস্টিক ও অবকাঠামো উন্নয়নের উপায় নিয়েও আলোচনা করে উভয়পক্ষ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি ত্বরান্বিত করতে একটি ওয়্যারহাউজ স্থাপন নিয়েও আলোচনা করা হয়। এটি বাস্তবায়ন হলে শিল্পের লিড টাইম কমবে বলে জানান তারা।

বিজিএমইএর পক্ষ থেকে দেশের টেক্সটাইল ও পোশাক কারখানাগুলোর দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের জন্য মার্কিন প্রতিনিধিদের অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে ইনোভেশন সেন্টারে মিলগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধি ও অপচয় কমাতে গবেষণা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা ও জ্ঞান প্রদানের আহ্বান জানানো হয়।

উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরো জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এছাড়া নতুন শুল্কনীতি এবং মার্কিন কাঁচামাল ব্যবহারের পরিমাপ পদ্ধতি সম্পর্কে স্বচ্ছতা ও ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে উভয়পক্ষই অঙ্গীকার করেন।

আরও